Select Page

উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস

প্রথম উসমানের দ্বারাই অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । ১৪৫৩ সালের দিকে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ যখন কনস্টান্টিনোপল জয় করেন, ঠিক তখন রাষ্ট্রটি একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয় । ১৬শত শতাব্দীতর দিকে সুলতান প্রথম সেলিম এর কাছে আব্বাসীয় খলিফা কর্তৃক ইসলামী খেলাফত হস্তান্তর করা হয় এবং শুরু হয় উসমানীয় খেলাফত এবং তার পরে তার ছেলে সুলতান প্রথম সুলাইমানের অধীনে সাম্রাজ্যটি সমৃদ্ধির চূড়ায় পৌছেছিল।

ঠিক তখন এর সীমানা ছিল পূর্বে পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপের বলকান অঞ্চল এবং উত্তরপূর্বে হাঙ্গেরি, উত্তর কৃষ্ণ সাগর রাশিয়া,ককেসাস, এবং পশ্চিমে ইরান , মধ্যপ্রাচ্য ইরাক সিরিয়া ফিলিস্তিন লেবানন জর্ডান মক্কা মদিনা এবং দক্ষিণে মিশর থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত। এই সাম্রাজ্যের পতন ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির ও ব্রিটিশদের মিত্র আরব জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে। তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলে ১৯২২ সালে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলি -> অটোমান সাম্রাজ্য ও ইসলামী খেলাফত বিলুপ্ত ঘোষণা করে। উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান (১২৯৯-১৪৫৩) যানা যায় সেলজুক রুম সালতানাতের পতনের পর আনাতোলিয়া বেশ কিছু স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এবং যাদেরকে গাজি আমিরাত বলা হত। সাল ১৩০০ নাগাদ দুর্বল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য তুর্কি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা হারায়। এবং কয়েকটি আমিরাতের মাঝে পশ্চিম আনাতোলিয়ার একটি আমিরাত ছিল আরতুগ্রুল গাজীর পুত্র প্রথম উসমান । তার নাম অনুসারেই এই সাম্রাজ্যকে উসমানীয় সাম্রাজ্য বা অটোমান সাম্রাজ্য বলা হয়। উসমানের স্বপ্ন নামের একটি কিংবদন্তীর কথা বলা হয়ে থাকে যার মাধ্যমে তরুণ উসমান পরবর্তীতে একটি সাম্রাজ্য তৈরি করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিল ।

তার স্বপ্নমতে, উসমানের সাম্রাজ্যটি ছিল সেই গাছ, যার শিকড় থেকে চারটি নদী-টাইগ্রিস, ইউফ্রেটিস, নীল ও দানিউব জারি করেছিল। গাছটি চারটি পর্বতশ্রেণী, ককেসাস, তোরোস, এটলাস ও বলকান রেঞ্জকে ছায়ায় আচ্ছাদিত করেছে। উসমানের মৃত্যুর সেই পরের শতাব্দীতে, অটোমান শাসন পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও বলকান এলাকাগুলিতে বিস্তৃত হতে শুরু করে। উসমানের ছেলে ওরহান ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে বুরসা শহর দখল করেন এবং এটি অটোমান রাষ্ট্রের নতুন রাজধানী তৈরি করেন। বুরসার পতনের অর্থ উত্তর-পশ্চিম আনাতোলিয়ায় বাইজেন্টাইন নিয়ন্ত্রণ হারায়। ভেনিসিয়ানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর সেলোনিকা জয় করে নেয়া হয় ১৩৮৭ সালে । কসোভো জয় করার পর অত্র অঞ্চলে সার্বিয়ান শক্তির সমাপ্তি ঘটে ফলে ইউরোপের দিকে উসমানীয়দের অগ্রযাত্রা সহজ হয় ১৩৮৯ সালে । ১৩৯৬ সালে মধ্যযুগের শেষ ব্যাপকভিত্তিক ক্রুসেড হিসেবে দেখা হয় নিকোপোলিসের যুদ্ধকে ।উসমানীয়রা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল । তুর্কিদের অগ্রযাত্রার সাথে কনস্টান্টিনোপল জয় করা কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এসময় উসমানীয়রা নিয়ন্ত্রণ করত কনস্টান্টিনোপলের চতুর্পাশ্বের সকল এলাকা, যেগুলো ছিল সাবেক বাইজেন্টাইন এলাকা।

১৪০২ সালে আঙ্কারার যুদ্ধে তৈমুর লং উসমানীয়দের পরাজিত করেন এবং এরপর সুলতান প্রথম বায়েজিদকে বন্দী করা হয়। এরফলে সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বায়েজিদের সন্তানরা উত্তরাধিকার দাবি করলে ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট গৃহযুদ্ধ ১৪০২ থেকে ১৪১৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শেষপর্যন্ত প্রথম মুহাম্মদ সুলতান হন এবং উসমানীয়দের ক্ষমতা পুনপ্রতিষ্ঠিত করেন । সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ও সর্বোচ্চ পর্যায় (১৫৫০-১৭০০) দ্বিতীয় মুহাম্মদ দ্বারা কনস্টান্টিনোপলে ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে অটোমান বিজয়ের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সর্বাধিক ক্ষমতা ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের । কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর মুহাম্মদ অর্থোডক্স চার্চ প্রধানের সাথে দেখা করে উসমানীয়দের প্রতি আনুগত্যের বিনিময়ে ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চকে তার কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছিল । সেই সময় পশ্চিম ইউরোপের রাজ্যগুলোর সাথে বাইজেন্টাইনদের সম্পর্ক খারাপ ছিল । আর তাই অধিকাংশ অর্থোডক্স জনগণ ভেনেসিয়ানদের পরিবর্তে উসমানীয়দের অধীনে থাকাকে সুবিধাজনক মনে করেছিল । কনস্টান্টিনোপলকে ১৪৫৩ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বানিয়ে দ্বিতীয় মুহাম্মদ সুলতান-ই-রুম উপাধি ধারণ করেন। আর এই দাবিকে বাস্তবে রুপদানের জন্য সাবেক রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিমের রাজধানী রোমকে বিজয় করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা শুরু করেন ।তখন তার এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি অনেক বছর অতিবাহিত অ্যাড্রিয়াটিক সাগর এর সুরক্ষিত অবস্থানের উপর যেমন আলবেনীয় ভেনেটা, এবং তারপর অব্যাহত রাখেন ২৮ জুলাই ১৪৮০ তে অটরান্টোতে অটোমান আক্রমণ এবং এপুলিয়া ।

তুর্কিরা তখন থেকে প্রায় এক বছরের মত অটরান্টো ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করে । কিন্তু পরে ৩ মে ১৪৮১ তে দ্বিতীয় মুহাম্মদ এর মৃত্যুর পর নতুন সৈন্যদল দ্বারা ইতালীয় উপদ্বীপে আরও ভেতরে আক্রমণ করার পরিকল্পনা বাতিল করা হয় এবং অবশিষ্ট অটোমান বাহিনী পূর্ব অ্যাড্রিয়াটিক সাগর এ ফিরে আসে ।

লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি লিওনেল মেসির নাম শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে।ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে ভিন গ্রহের ফুটবলারও বলা হয়। শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জিতলেই যে সেরা ফুটবলার হওয়া যায় সেই ধারনাকেই তিনি পাল্টে দিয়েছেন। তার খেলার ধরন, মান আর শৈল্পিকতার কারনেই ফুটবল বিশ্ব তাকে ‘ GOAT ‘ Greatest of all Time নামে চেনে। তাকে ক্ষুদে জাদুকরও বলা হয়।

লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে ১৯৮৭ সালের ২৪শে জুন জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই লিওনেল মেসির প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তার খেলায় সব ক্লাবই আকৃষ্ট হতো কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা পিছিয়ে যেত কারন শৈশবে মেসি হরমোনের সমস্যা ভুগছিলো। তার চিকিৎসার খরচও ছিলো অনেক ব্যয়বহুল। তখন এগিয়ে আসে ইউরোপীয় ক্লাব বার্সেলোনা। ১৩ বছর বয়সে তাকে বার্সেলোনায় নিয়ে আসা হয় ট্রায়ালের জন্য তৎকালীন সভাপতি তার খেলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিল যে তৎক্ষনাৎই সে হাতের সামনে আর কিছু না পেয়ে টিস্যু পেপারে সই করে চুক্তিবদ্ধ করেন। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে ১৭ বছর বয়সে মেসি বার্সেলোনার মূল দলে অভিষিক্ত হন। বিশ্বসেরা হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় নেননি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের আগেই তারকাখ্যাতি পেয়ে যান। যদিও মেসির আসল উত্থান ২০০৭ সাল থেকে। সেবার ফিফা ব্যালন ডি অর ও ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারদের তালিকায় সেরা ৩ এ ছিলেন। এরপর থেকে আর পিছনে তাকানো হয়নি। শুধু সামনে এগিয়েছেন। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, এক বর্ষপঞ্জিতে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। সর্বোচ্চ এসিস্ট্যের রেকর্ড। কি নেই তার ঝুলিতে?? গোল করানো গোল করা আর আক্রমণ ভাগ সাজানো সবকিছুতেই রয়েছে তার আনিন্দ সৌন্দর্য। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পেয়েছেন টানা চারটি ফিফা ব্যালন ডি অর পুরষ্কার। এছাড়াও মেসি ৩ টি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু পুরষ্কার পেয়েছেন। তিনি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লীগের প্রতিটি দলের বিপক্ষেই গোল করেছেন। ২০০৫ ফিফা অনুর্ধ ২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ে তার অবদা ন ছিলো অনেক। সর্বোচ্চ ৬ গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্বকাপ বলুন আর কোপা আমেরিকা বলুন লিওনেল মেসি যেকয়টা খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রতিটি খেলায় সে তার অনবদ্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। অল্পের জন্য হয়তো বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। আবার অনেকেই আছেন মেসি বিশ্বকাপ জেতেননি বলে তাকে সেরা খেলোয়াড় মানতে রাজি না। অনেকেই বলেন টাকার কারনে মেসি জাতীয় দলে ভালোমত খেলেন না। তবে দিনশেষে যে যাইহোক বলুক না কেন। মেসি মানেই মেসি। তার খেলা দেখলে যে কেও মুগ্ধ হবেই। তার করা একটি গোল শতাব্দীর সেরা গোলের খাতায় জায়গা করে নিয়েছে। আরো এমন অনেক গোল আছে যা দেখলে সবারই মনোমুগ্ধ হয়ে যায়। মেসি এমন একজন মানুষ যে কিনা নিজে গোল করে আবার অন্যকে দিয়ে গোল করাতেও পারে। আমি এমন অনেক খেলা দেখেছি যখন মেসির ২ গোল হটাৎ একটি গোলের সুযোগ আসলো বা পেনাল্টি আসলো তার দলের আরেকটি খেলোয়াড় যার সময় খারাপ যাচ্ছে না গোল পাচ্ছে না মেসি তাকে দিয়ে গোল করায়। আবার এমন অনেক খেলায় দেখেছি সাধারণত মেসিকে তার বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা সবসময় আটকে রাখার চেষ্টা করে করে অনেক ট্যকেল সহ্য করতে হয় মেসিকে। তাকে ট্যকেল করে মাটিতে ফেলে দেবার পরও সে উঠে গিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। তার মত পেশাদারিত্ব ফুটবল মাঠে আর কয়জন দেখতে পেরেছে তা জানিনা। তবে ফুটবল ইতিহাসে মেসি এক অনন্য নাম। এজন্যই অনেকে তাকে পেলে, ম্যারাদোনার সাথে তুলনা করে। আমি কোন তুলনায় যাবোনা। আমি শুধু তার ফুটবলীয় জীবনের কথাই বলবো। স্বয়ং…. পেলে, ম্যারাদোনা, রোনালদিনহো সহ আরো অনেকে গ্রেটেস্ট ফুটবলারের মন্তব্য মেসিকে নিয়ে যা দেখলে আসলেই গর্ব করার মত। কিছুদিন আগেই মেসিকে GOAT উপাধি দেওয়া হয়। এর মানে গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম। সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তাকে ভিন গ্রহের ফুটবলার ও ক্ষুদে জাদুকরও বলা হয়। যাইহোক আজকে আমরা লিওনেল মেসির ফুটবল খেলার পরিসংখ্যান কোন মৌসুমে কত গোল করছেন, কোন খেলায় কিরকম খেলেছেন, কারো সাথে তুলনা ও তার ব্যাক্তিগত ব্যাপারে আলোচনা করলাম না। শুধুমাত্র বলতে চাই যারা ফুটবল খেলেন বা খেলা দেখেন মেসিভক্ত না হলেও তার খেলা দেখলে যে কেও মুগ্ধ হবেই। বিশ্বকাপ না জিতলেও যে কোটি ভক্তের মন জয় করা যায় এবং তাদের পাশে পাওয়া যায় লিওনেল মেসি তা প্রমান করেছেন। গত বিশ্বকাপের কথাই বলুন হেরে যাওয়ার পর অভিমানে অবসর নিলেন তারপর দেখা গেলো সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সারা বিশ্বে মেসিকে অবসর থেকে ফিরে আসার জন্য আকুল আবেদন ও মিছিল। ভক্তের ভালোবাসায় মেসি আবার ফিরে এসেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কথা মাথায় নিয়ে।

আপনারা যে যাই বলুন না কেন ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের একজন লিওনেল মেসি । তার খেলা তার পেশাদারিত্ব তার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, ভক্তের প্রতি ভালোবাসা, সর্বকালের সেরা ফুটবলার ও ধারাভাষ্যকারদের মেসিকে নিয়ে বলা বিভিন্ন টুইট, কমেন্ট, উক্তি, ভলোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান তাই প্রমান করে।

কোকাকোলার অজানা তথ্য

সর্বপ্রথম বাজারে আসার পর প্রথম বছরে মাত্র ৯ গ্লাস বিক্রি হয়েছিলো। আর এখন কোকাকোলার নাম শুনেনি এরকম লোক খুজে পাওয়া মানে খড়ের গাদায় সূচ খোজার মত। সারা বিশ্বে এখন প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ কোকাকোলা পান করে। কিন্তু আমরা এই পানীয়টা সম্পর্কে কতটুকু জানি??

কোকাকোলার আবিষ্কারক জন পেম্বারটন ১৮৩১ সালে আমেরিকার জর্জিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনাতে ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো ছিলেন। পড়া শেষে ১৮৫০ সালে ফার্মাসিস্ট ডিগ্রি ও লাইসেন্স পেয়ে যান। তার লক্ষ ছিলো ঔষধ আবিষ্কার করা ও বিক্রি করা। আমেরিকায় দাস প্রথা নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে সেই যুদ্ধে পেম্বারটন আহত হন। তার শরীরে ক্ষত তৈরী হলে ডাক্তার তাকে মরফিন দেওয়া শুরু করেন। একসময় তিনি নিজেও মরফিন নিতে শুরু করেন ও এতে আসক্ত হয়ে পড়েন। স সময়ে মরফিন ছিলো খুব দামি। তাই সে গবেষণাগারে মরফিনের বিকল্প হিসেবে নানান ধরনের গবেষণা শুরু করেন। আর সেই বিকল্প হিসেবে কোকাপাতার সাথে মরফিন মিশিয়ে তৈরী করেন এক ধরনের পানীয়। কোকা গাছ থেকে কোকেন তৈরী হয় যার কারনে ঐ পানীয় খেলে নেশার ভাব চলে আসতো। ১৮৮৬ সালে আমেরিকায় এলকোহল জাতীয় পানীয়ের বিরুদ্ধে আইন তৈরী হয়। তখন ঐ পানীয় বাদ দিয়ে কোকা পাতার সাথে কোলা নামক বাদামের গুড়ো মিশিয়ে একধরনের পানীয় তৈরী করেন যা চিনির সিরাপের সাথে ঝাঝালো উপকরনে মিশ্রিত থাকতো। এই কোকা পাতাকে আর কিভাবে ভিন্ন ভাবে রেসিপিতে যোগ করা যায় সেই নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন জন। একসময় তিনি সোডা ওয়াটারের সাথে কোকা পাতার গুড়ো আর কোলা বাদামের গুড়ো। আর এভাবেই নেশার দ্রব্য আবিস্কার করতে গিয়ে তৈরী হলো আজকের এই কোকাকোলা। সেই সোডা ওয়াটারের সাথে কোকা পাতার গুড়ো আর কোলা বাদামের গুড়ো মিশিয়ে যে পানীয় তৈরী করেন তা জন তার এক বন্ধুকে খাওয়ান। তার বন্ধু খাওয়ার পরেই উচ্ছ্বসিত হয়ে তাকে এই পানীয় বাজারজাত করতে বলেন। কোকা পাতা আর কোলা বাদাম এর মূল উপকরণ তাই এর নাম দেওয়া হলো কোকাকোলা। ১৮৮৬ সালের ৮ই মে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া শহরে প্রথম কোকাকোলা বিক্রি শুরু করেন তারা। তখন প্রতি গ্লাসের মূল্য ছিলো ৫ সেন্ট। বাজারজাতকরণের প্রথম বছরে মাত্র ৯ গ্লাস কোকাকোলা বিক্রি হয়। সেই সময়ে কোকাকোলার সাথে কোকেন মেশানোর ব্যপারটা যথেষ্ট প্রচলিত ছিলো। ১৯০৩ সাল থেকে কোকেনের ব্যবহার কমতে থাকে। ১৯২৯ সাল থেকে কোকাকোলা থেকে কোকেনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধুর সাথে কোকাকোলা বাজারজাত করলেও পুরো রেসিপি নিজের কাছেই গোপন রাখেন জন। কিন্তু মরফিনের নেশা তাকে এতটাই আসক্ত করেছিলো যে সে মরফিনের নেশা কাটানোর জন্য কোকাকোলার শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন। কিন্তু সিংহভাগই রেখে দেন নিজের কাছে মানে নিজের ছেলেকে দেন যাতে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে। দূর্ভাগ্যবশত নেশাটা এতটাই চেপে গিয়েছিল যে জন কোকাকোলার স্বত্ব বাদে সব শেয়ার তার এ.জি ক্যান্ডলার এর কাছে বিক্রি করে দেন। কিছুদিনের মধ্যে জন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৮৮ সালে মারা যান। তার ছেলে চার্লি পেম্বারটন অলস থাকায় সেও কোকাকোলার স্বত্ব বিক্রি করে দেন। আর এভাবেই পেম্বারটন পরিবারের সাথে কোকাকোলার সম্পর্কের ইতি ঘটে। এরপর ক্যান্ডলার এর হাত ধরে কোকাকোলা এগিয়ে যেতে থাকে। তিনিই কোকাকোলা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। আর রেসিপিতে কিছু পরিবর্তন আনেন। সেই সময় তার মূলধন ছিলো ১ লাখ ডলার। তিনি রেসিপিতে কার্বনেটেড ওয়াটার যোগ করেন। আর এতেই কোকাকোলা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এত জনপ্রিয়তার জন্য ১৮৯৪ সালে কোকাকোলা বোতলজাত করেন বিক্রি শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই কোকাকোলা হয়ে উঠে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ষফট ড্রিংকস নির্মাতা ও বিক্রেতা কোম্পানি। ১৯১৯ সালে ক্যান্ডলার কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কোকাকোলা কোম্পানি কিনে নেন। তিনিও কোকাকোলার মান উন্নয়ন ও বোতলজাতকরনে বেশি মনোনিবেশ করেন। ঠান্ডা বোতলে বাজারজাত করা কোক আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ১৯৫০ সালের টাইমস ম্যগাজিনে কোকাকোলা স্থান পায়। তবে এই পানীয়টি এত সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। এজন্য অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয়েছে। জনপ্রিয়তা পাবার জন্য ফ্রি পান করিয়েও অভ্যস্ত করেছিলেন। গরমে কোকাকোলার চাহিদা বাড়লেও শীতে কমে যায় তাই তিনি বিজ্ঞাপন করেছিলেন ‘ Thirsty Knows No Season ‘ ( তৃষ্ণা কোন ঋতু মানেনা)। সময়ের সাথে সাথে হাত বদলের মাধ্যমে কোকাকোলার আজকের এই রেসিপি । চিনির স্বাদযুক্ত বা চিনি ছাড়া দুই ধরনের কোকই বাজারে পাওয়া যায়। কোকাকোলা সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য ১। এক জরিপে উঠে এসেছে যে বিশ্বের ৯৪ শতাংশ মানুষই কোকাকোলার নাম জানেন। ২। বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ কোটি বোতল কোকাকোলা বিক্রি হয়। ৩। পৃথিবীতে মাত্র ২ টা দেশে কোকাকোলা বিক্রি হয়না সেটা হলো কিউবা আর উওর কোরিয়া। ৪। কোকাকোলা কোম্পানি শুধু কোক নয় যেটা জানলে অবাক হবেন যে কোকাকোলা কোম্পানি প্রায় ৩৫০০ ধরনের বেভারেজ তৈরী করে থাকে। ভাবুন প্রতিদিন যদি ৩ করেও টেস্ট করেন বাকিগুলো শেষ করতে ৩ বছরের ও বেশি সময় লাগতে পারে। কোকাকোলা, স্প্রাইট ,ফান্টা, জিরো কোক, ডাইট কোক সহ আরো অনেক ধরনের পানীয় রয়েছে তাদের। ৫। মহাকাশ স্পেসেও রয়েছে কোকের ভেন্ডিং মেশিন। গোপনীয়তা পৃথিবীতে যত গোপন বিষয় আছে তার মধ্যে কোকাকোলা একটি। কোকাকোলার রেসিপি তৈরী করেন প্যাম্বারটন। তার কাছ থেকে ক্যান্ডলার স্বত্ব ও রেসিপি কিনে নেওয়ার পর যুগে যুগে বিশ্বস্ত লোক ছাড়া কোকাকোলার রেসিপিটি আর কেও জানেনা।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে একটি ভল্ট বানানো হয় যোখনে কোকাকোলার রেসিপি নিয়ে কাজ করা হয়। যেখানে ১০জন অফিসারের হাতে রয়েছে কোকাকোলার ফর্মুলা। তারা এই ভল্টে ঢুকতেও আলাদা সিকিউরিটি প্রসেসের মাধ্যমে এই ভল্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের একসাথে চলাফেরা ও যাতায়াত নিষিদ্ধ। এই ফর্মুলা এতটাই গোপনীয় যে কোকাকোলা কোম্পানিকে অনেকবারই আদালতে যেতে হয়েছে এর গোপন ফর্মুলার জন্য।

অমূল্য ধন তিমি মাছের বমি

অমূল্য ধন তিমি মাছের বমি

বমির কথা শুনলেই গা ঘিনঘিন করা শুরু করে। কিন্তু সেই বমি যদি হয় মহামূল্যবান তাহলে কি করবেন?? হ্যা, আমি মহামূল্যবান তিমি মাছের বমির কথাই বলছি। অনেকেই হয়তো জানেন না তিমি মাছের বমি অনেক মূল্যবান। যাকে Floating Gold বা ভাসমান স্বর্ন বলে ডাকা হয়। বমির কথা শুনলে কার না গা ঘিনঘিন করে? কি বমি যদি হয় মহামূল্যবান জিনিস তাহলে তো কোন কথাই নেই। আসলে তিমি মাছের বমির কথা বলা হচ্ছে এখানে। কিন্তু কেন এতটাই দামি তিমি মাছের বমি ? উওরটা খুব সহজ। তিমির বমি থেকে অত্যন্ত দামি সুগন্ধি তৈরী করা হয়। বিশ্বের বড় বড় সুগন্ধি তৈরীর কোম্পানিগুলোতে রয়েছে তিমির বমির প্রচুর চাহিদা। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের সাগরে এই অমূল্য বমি পাওয়া যায়। তিমির বমিকে ইংরেজিতে অ্যাম্বারগ্রিস ( Ambergris) নামে ডাকা হয়। দুষ্প্রাপ্যতার কারনেই এর এত দাম। জেনে রাখা ভালো যে সব তিমি মাছ থেকেই এই দামি জিনিস পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র ‘স্পার্ম হোয়েল ‘ থেকে এই জিনিসটা পাওয়া যায়। এই বমি সাধারণত সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেক সময় সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে তীরে চলে আসে যার কারনে একে ভাসমান স্বর্ন বা Floating Gold বলা হয়। তিমি মাছের বমির দাম কেজি প্রতি কমবেশি প্রায় ২৪ হাজার ডলার। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুই সঙ্গীকে নিয়ে এক জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে তিমির বমি খুজে পান। যে জেলে ২০ বছর আগেও নুন আনতে পানতা ফুরোতো সেই জেলে এখন কোটিপতি। তারা প্রায় ৮০ কেজি বমি খুজে পান পরবর্তীতে সেই বমি তারা ২৫ লাখ ডলারে বিক্রি করেন। গত ফেব্রুয়ারীর ২৩ তারিখে থাইল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে হাটছিলেন সিরিপর্ন নামে এক নারী। হঠাৎ করেই একটি মাংসপিন্ডের মত এক বস্তু তার চোখে পড়ে। তিনি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখেন। তার থেকে প্রচুর দূর্গন্ধ বের হচ্ছিল। সে ভাবছিলো হয়তো কোন কাজে লাগতে পারে। তিনি সেটাকে নিয়ে এসে এলাকারই একজনকে দেখান তারপরই তিনি এটা সম্পর্কে জেনে হতবাক হয়ে যান। তার পাওয়া বমিটি ছিলো ১২ ইঞ্চি পাশ এবং ২৪ ইঞ্চি লম্বা। ১৫ পাউন্ডের সেই পিন্ডটির দাম প্রায় কোটি টাকা। ফলে ভাগ্যের জোড়ে সেই মহিলা হয়ে গেলেন কোটিপতি।

এরকম আরো অনেক ঘটনাই আছে।যারা তিমির বমি খুজে পেয়ে হয়ে গেছেন কোটিপতি আবার কেও সেটা সম্পর্কে না জেনে অবজ্ঞা করে পূশ কাটিয়ে চলেও গেছেন।

ইয়েতি দৈত্যকার তুষারমানব নাকি সাধারণ ভাল্লুক?

ইয়েতি দৈত্যকার তুষারমানব নাকি সাধারণ ভাল্লুক??

বিশাল তার পায়ের ছাপ। অতিমানবীয় তার আকার। থাকে হিমালয়ে। বড়সড় গরিলার মত দেখতে, গায়ে ঘন সাদা লোম। হঠাৎ করেই দেখা যায় আবার হটাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। ইয়েতি আলোচনায় আসে ১৮৩২ সালে এক অভিযাত্রী হাডসনের বর্ননায়। তখন থেকেই সারা বিশ্ব ইয়েতির উপর আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে লরেন্স ওয়েডেল নামক আরেক অভিযাত্রী দাবি করেন তিনি ইয়েতির পায়ের ছাপ দেখেছেন। ইয়েতিকে অনেকে নরবানর মনে করেন। উওর আমেরিকার বিগ ফুট বা বড় পা ওয়ালা প্রানী হিসাবে পরিচিতি পাওয়া প্রাণীটির সাথে ইয়েতির বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়। ইয়েতি তুষারমানব, মি’ গো, ক্যাং আদমি, জোব্রান নামেও মানুষের কাছে পরিচিত। তবে অনেকেই ইয়েতিকে অস্বীকার করে। তারা ইয়েতিকে কল্পিত কাহিনি বলে থাকেন বা ইয়েতিকে মানুষের দৃষ্টিভ্রম বলে থাকেন। হিমালয় অঞ্চলে এই ইয়েতিকে নিয়ে অনেক কল্পকাহিনির প্রচলিত আছে। ইয়েতি দেখতে দানবের মত বিশাল আকৃতির। সারা গায়ে সাদা ও বাদামি লোমে ঢাকা। মুখের আকৃতি গরিলার মত। দু পায়ে হেটে বেড়ায়। একটা চমরী গাইকে এক নিমিষেই ধরে নিতে পারে। হিমালয় অঞ্চলের মানুষের কাছে ইয়েতি এক ভয়ের নাম। তারা আজও গভীর ভাবে ইয়েতিকে বিশ্বাস করে। কিন্তু কেও কি এই ইয়েতিকে সচক্ষে দেখেছে??

১৮৩২ সালে ব্রায়ান হজসন নামে এক অভিযাত্রী তার লেখা বইতে লেখেন তার গাইড নাকি বরফের মধ্যে ঘন লোমে ঢাকা এক তুষারমানবকে দেখেছেন যা কিনা দু পায়ে চলে। ১৮৯৯ সালে লরেন্স ওয়াডেল তার বইতে লেখেন ইয়েতির পায়ের ছাপের কথা। ২০ শতকের শুরুর দিকে তখন হিমালয়ের অঞ্চলগুলোতে অভিযান চলছিলো তখন এই ইয়েতির পায়ের ছাপ বা ইয়েতি দেখতে পাওয়ার অনেক ঘটনা ডালপালা ছড়াতে শুরু করে। ১৯২১ সালে কর্নেল সি কক এভারেস্ট অভিযানে ২০ হাজার ফুট উপরে একদল মানুষের পায়ের ছাপের মত ছাপ দেখতে পান। কিন্তু সেগুলোর আকার মানুষের পায়ের ছিলো না। সেগুলো আকার অনেকটা দানবাকৃতির ছিলো। ১৯২৩ সালে মেজর অ্যালান এভারেস্ট অভিযানের সময় একদল মানবাকৃতির প্রানীকে হেটে যেতে দেখেন। ১৯৫১ সালে এরিক শিপটন হিমালয়ের ২০ হাজার ফিট উপরে ইয়েতির পায়ের ছাপের ছবি তুলেন আর তখনই শুরু হয় জল্পনাকল্পনা। সেই ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছাপা হলে চারিদিকে হইচই শুরু হয়ে যসর। এরপরই শুরু হয় নানান অভিযান। বিভিন্ন এজেন্সি ইয়েতি শিকার করার জন্য দামি দামি অফার বা টাকা প্রদান করার আশ্বাস দেয়। অনেকেই সেই অফার লুফে নিয়ে বের হয়ে পড়ে ইয়েতি শিকারের জন্য। এরপরে এভারেস্ট জয়ী এডমন্ডস্ হিলারী ও তেনজিং নোরগে তাদের অভিযান ইয়েতির পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানান। ১৯৭০ সালে বৃটিশ পর্বতারোহী ডন হোয়াল্যান্স অন্নপূর্ণা অভিযানে এক রাতে ইয়েতির ডাক শুনে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে ইয়েতিকে তার ক্যাম্পের আশেপাশেই ঘুরাফেরা করতে দেখেন। পরবর্তী সকালে সে ইয়েতির পায়ের ছাপও দেখেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীও তাদের সীমানা টহলের সময় কয়েকবার ইয়েতি দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হয় এই ইয়েতিকে নিয়ে। একবার একদল বিশেষজ্ঞ একটা মাথার খুলি খুজে৷ পান তারা সেটা পরীক্ষাগারে নিয়ে পরীক্ষার পর জানতে পারেন ঐ খুলি ছিলো বিপন্ন প্রাজতির এশিয়ান ভাল্লুকের। এর পরে আরেক অভিযানে ইয়েতির গায়ের লোম পাওয়া যায় কিন্তু সেটা পরীক্ষা করে পরিচিত কোন প্রাণীর সাথে সম্পর্ক পাওয়া যায় না। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান সাইকাস ও তার সহযোগীরা একটি গবেষণা করে জানান যে নরওয়ে থেকে সংগ্রহীত ৪০ হাজার বছর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বছর পুরোনো মেরু ভাল্লুকের চোয়ালের হাড়ের সাথে ইয়েতির চোয়ালের হাড়ের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ১০০ ভাগ মিল রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারনা বিলুপ্ত মেরু অঞ্চলের ভাল্লুক ও সমজাতীয় বাদামী ভাল্লুকের সংকর জাত এই ইয়েতী।

তবে আপনাদের কি মনে হয় যে ইয়েতী মানুষের কল্পনাসৃষ্ট কোন অতিমানব নাকি হিমালয়ের দূর্গম অঞ্চলে এখোনো বড় বড় পায়ের ছাপ ফেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই রহস্যময় ইয়েতি ???

বাংলার টাইগার মাশরাফি বিন মুর্তজা

বাংলার টাইগার মাশরাফি বিন মুর্তজা।  ডাকনাম তার ‘কৌশিক’। কিন্তু বাংলার মানুষ তো তাকে “নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামেই চেনে। ক্রিকেট যার রক্তে মিশে আছে। ইনজুরি তাকে প্রতি পদে পদে হারাতে চাইলেও ম্যাশ ঠিকই বারবার ইনজুরিকে হারিয়ে মাঠে ফিরে এসেছেন।

১৯ বছরের ক্যরিয়ারে ১১ বার ইনজুরিকে হার মানিয়ে মাঠে ফিরে আসা সে চাট্টিখানি কথা নয়।   মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৯৮৩ সালের ৫ই অক্টোবর নড়াইলে জন্মগ্রহন করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাধধরা পড়াশোনার পরিবর্তে ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতেই বেশি পছন্দ করতেন। আর চিত্রা নদীতে তো সাঁতার কাটা আছেই। তরুন বয়সে তার ক্রিকেটের প্রতি একটা ঝোক আসে। বোলিং এর থেকে ব্যাটিং বেশি পছন্দ করতেন। যদিও এখন বোলার হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত।  ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিনি অনুর্ধ ১৯ দলে থাকতেই সাবেক ফার্স্ট বোলার এ্যান্ডি রবার্টসের নজরে আসেন যিনি তখন অস্থায়ী বোলিং কোচ ছিলেন। তার পরামর্শেই মাশরাফিকে এ দলে নেওয়া হয়। এ দলের হয়ে ১ ম্যাচ খেলার পরেই তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। অভিষেকেই ম্যাশ তার জাত চেনান। ১০৪ রানে ৪ টি উইকেট নেন। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার। মাশরাফির প্রথম ফার্স্টক্লাস ম্যাচও ছিলো এটি।  সেই বছরেরই ২৩ শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে ম্যাশের অভিষেক হয়। ৮  ওভার ২ বল করে ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাক্তিগত ৩য় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। দু বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর আবার মাঠে ফিরে আসেন। আবার টেস্ট খেলতে নেমে ৬০ রানে ৪ উইকেট নেন। কিন্তু ফের ইনজুরিতে পড়েন ম্যাশ। আবার ১ বছর বাইরে। ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়কে অফ স্ট্যাম্পের বাইরের একটি অসাধারণ ডেলিভারিতে আউট করে স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দেন। সেই সিরিজে ধারাবাহিক বোলিং করে নিজের জাত চেনান। সেই সিরিজের একটি ম্যাচের জয়ের নায়ক তো ছিলেই নড়াইল এক্সপ্রেস।  ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে পেস বোলারদের ঘাটতি ছিলো কিন্তু মাশরাফি আসার পর সবাই ভেবেছিলো এবার হয়তো ভালো কিছু ঘটতে চলেছে।  *২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার (৪৯টি)।  * কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে ছিলো ম্যাশের অবদান।  * ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ জয়ের নায়ক তো ছিলেন ম্যাশ।  সেই ম্যাচে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নেন ম্যাশ। * ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে তার অলরাউন্ডার পার্ফামেন্স ছিলো চোখে পড়ার মত। এছাড়াও মাশরাফির অনেক ম্যাচে জয়ের অবদান অনেক রয়েছে যেগুলো বলে শেষ করা যাবেনা।  অধিনায়ক হিসেবে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার বেশ উজ্জ্বল । ৮৮ টি একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫০ টি জয় তুলে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই বড় বড় পরাশক্তির দল ভারত,পাকিস্তান, দক্ষিন আফ্রিকাকে ওডিআই সিরিজে হারান। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারঃ টেস্টঃ ২০০১-২০০৯ পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট (অবসর) ওয়ানডেঃ ২০০১- ২০২০ পর্যন্ত ২২০ ম্যাচে ২৭০ উইকেট ( অবসর নেননি) টি ২০ঃ ২০০৬-২০১৭ পর্যন্ত ৫৪ ম্যাচে ৪২ উইকেট। (অবসর) তার ক্রিকেট পরিসংখ্যান দেখে হয়তো আহামরি কিছু মনে হবেনা। তবে মাশরাফি দলে থাকলে দলটা কি পরিমাণ উজ্জীবিত থাকে সেটা মাঠে আর মাঠের বাইরেও সবাই জানে।  তিনি দলে থাকলে সবার মধ্যে থেকে সেরটা বের করে আনার চেষ্টা করেন। বারবার ইনজুরিতে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত হবার পরেও সে প্রতিবারই মাঠে ফিরে এসেছেন।  তার ইনজুরি ডাক্তারের ডেভিড ইয়াং এর ভাষ্য ঃ প্রতিটি দলেই মাশরাফির মত একজন নেতা প্রয়োজন।  যিনি তার সহ খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবেন এবং তাদের থেকে সেরাটা বের করে নিয়ে আসেন।  তিনি বলেন বারবার ইনজুরিতে পড়েই ফিরে আসার পেছনে রয়েছে তার চেষ্টা।  চেষ্টার কারনেই ৭ বার ছুড়ির নিচে গিয়েও আবার ঠিকই ক্রিকেট মাঠে ফিরে এসেছেন।  তিনি বলেন মাশরাফি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি ৭ বার বড় অপারেশন ছাড়াও ১৯ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ১১ বার ইনজুরিতে পড়েছেন। ওর জায়গায় অন্য কেও হলে ভয়ে ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দিত। যেখানে একজন সাধারণ বা ভালো মানের খেলোয়াড় ২-৩ বার অপারেশন করতে গেলেই তারা ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন সেখানে মাশরাফি ৭ বার ছুড়ির নিচে গিয়েছেন। নিজের ইনজুরি সম্পর্কে মাশরাফি বলেন,  বারবার ইনজুরি থেকেই ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পাই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে। এমনও ম্যসচ গেছে যেখানে ২-৩ টা বল করেই সোজা হয়ে দাড়াতে পারছিলাম না। তখন তাদের স্মরন করেছি। আর মনে মনে বলেছি, হাত – পায়ে গুলি লাগার পড়েও তো মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে গেছেন তাহলে আমি কেন পারবো না!!!  বর্তমানে মাশরাফি বিন মুর্তজা টেস্ট ও টি২০ থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ক্রিকেট খেলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।  যদিও অনেকদিনের ধরেই তিনি দলের বাইরে। তবুও তিনি এখনই অবসর নিবেন না বলে জানিয়েছেন।  কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে যে ক্রিকেট বোর্ডের সাথে ঝমেলার কারনেই নাকি হঠাৎ করেই টি২০ থেকে অবসর নিয়েছেন আর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকেও সরে দাড়িয়েছেন। সম্প্রতি তার কিছু সাক্ষাৎকারে সেটাই বোঝা গেছে।

মাশরাফি বিন মুর্তজা এখন নড়াইলের সংসদ সদস্য। খেলোয়াড় হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে যেমন বাংলাদেশ দলকে তুলে ধরেছেন। তেমনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তার কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে আরও প্রিয় ব্যাক্তিত্ব হয়ে উঠবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও রহস্যময় রথসচাইল্ড পরিবার।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও রহস্যময় রথসচাইল্ড পরিবার।

রথসচাইল্ড পরিবার হলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও রহস্যময় পরিবার নামে পরিচিত। তাদের মোট সম্পদের পরিমান কত সম্ভবত তা তারা নিজেরাও জানেনা। এই পরিবারকে শুধু ব্যাংক অব দ্য ব্যাংকস নয় বরং তাদেরকে বলা হয় গভর্নমেন্ট অব দ্য গভর্নমেন্টস। রথসচাইল্ড ফ্যামিলি হলো বিশ্বের একমাত্র ট্রিলিয়ন ফ্যামিলি। এই পরিবারের সবাই একেকজন বিলিওনিয়ার। তাদের মোট সম্পদের পরিমান বিশ্বের অনেক দেশের মোট সম্পদের থেকেও বেশি।

আঠারো শতকের ষাটের দশকে ব্যাংকিং ব্যবসার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে এই ইহুদি পরিবার। এই পরিবার যে শুধু ধনী তাই নয় তারা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় পরিবারও বটে। এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মায়ার আমসেল রথসচাইল্ড। তার বাবার নাম মোজেস আমসেল বাউয়ার যিনি পেশায় ছিলেন একজন মহাজনী ও স্বর্নকার। বাবার কাছ থেকে ছোটবেলায়ই রথসচাইল্ড সুদের ব্যবসা শিখে নেন। বাবা মারা যাবার পর রথসচাইল্ড ব্যাংকে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তার অসাধারণ দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি হয়ে যায় ব্যাংকের একজন পার্টনার। সেখানে কাজ করার সময় ইউরোপের প্রায় প্রতিটি রাজ পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক হয়। সেখানকার এক ব্যবসায়ী উইলিয়ায়ের সাথে তার ভালো একটা সম্পর্ক হয় কিন্তু কোন এক কারনে সেই ব্যবসায়ী ডেনমার্কে পালিয়ে যাবার সময় রথসচাইল্ডকে ৬০ হাজার পাউন্ড দিয়ে যান। যার তৎকালীন মূল্য ৩০ লাখ পাউন্ড। ধারনা করা হয় সেই ব্যবসায়ীর পালিয়ে যাওয়া রথসচাইল্ডের ষড়যন্ত্র ছিলো। এরপরই ৫ সন্তানের জনক মায়ার তার এক ছেলেকে সাথে রেখে বাকি ৪ জনকে ইউরোপের ৪ টি সমৃদ্ধ শহরে পাঠিয়ে দেন মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যবসা খোলার জন্য। এরপরই তারা ইউরোপ জুড়ে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো জোরদার করে নেয়। অল্পদিনের মধ্যে তারা প্রভাবশালী হয়ে উঠে এবং তাদের ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন।

তাদের অবস্থান এমন হলো যে চাইলে তারা দুই রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারতেন। সেখানেই শেষ না তারা দুই রাজাকেই দিতেন চরা ঋনের সুদ। হারুক আর জিতুক ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারলেই জায়গাজমি স্বর্নালংকার সব নিয়ে নেওয়া হতো। ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সময় তাদের অবস্থান আরো মজবুত হয়। ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৯ স্থানী হওয়া সে বিপ্লবে তারা ব্রিটিশ সরকারকে চড়া ঋনে সুদ প্রদান করে। এবং প্রচুর পরিমানে মুনাফা অর্জন করতে থাকে। একইভবে তারা বিভিন্ন বিপ্লব বা যুদ্ধের সময় তাদের এই পলিসি কাজে লাগিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে থাকে। ১৮১২ সালে মায়ার রথসচাইল্ড মারা গেলে তার ছেলে নাথান রথসচাইল্ড ব্যবসার হাল ধরেন এবং যুগান্তকারী সব সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন। তিনি তার ছেলেকে ২০ হাজার ডলার দিয়ে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেন টেক্সটাইল ব্যবসার জন্য। সেখানে সাফল্য পেতে সময় লাগেনি। অল্পদিনের মধ্যে সেখানে তারা একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবেই তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্যাংক ব্যবসার চালু হয়। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সেই টাকা ছাপায়, ট্যাক্স সংগ্রহ করে এবং সেই টাকা সরকারকে দেয় দেশ চালানের জন্য। সেই ব্যাংকও রথসচাইল্ড পরিবার চালায়। একটি চমকপ্রদ তথ্য জানলে অবাক হবেন যে বিশ্বের সকল বড়বড় ব্যাংক গুলোর নিয়ন্ত্রণ করেন এই পরিবার। একমাত্র কিউবা ও উওর কোরিয়া ছাড়া প্রায় প্রত্যেকটা দেশেরই ব্যাংকিং ব্যাবস্থার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। মেয়ার রথসচাইল্ড মারা যাবার পূর্বে উইল করে যান যে এ ব্যবসায় তাদের পরিবারের সদস্য ছাড়া বাইরের কেও আসতে পারবেনা। রথসচাইল্ড পরিবার এমন একটি পরিবার যাদের সম্মানার্থে ১৫৩ টি পতঙ্গ, ৫৮টি পাখি, ১৮ টি স্তন্যপায়ী, ১৫ টি উদ্ভিদ ও ২ টি সরীসৃপের নামকরন করা হয়। তাদের নামে বিভিন্ন রাস্তাঘাট করা আছে বিভিন্ন দেশে। এমনকি তাদের নামে এন্টার্কটিকায় একটি দ্বীপও রয়েছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এই পরিবার আবার ইসরায়েলকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা করার জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে ২০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছিলো বলে জানা যায়। ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়াও তাদের তেলের ব্যবসা, ট্যরিজম ব্যবসাসহ আরো অনেক জানা অজানা ব্যবসা রয়েছে। তাদের ক্ষমতা এতটাই যে কখনো যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে তাহলে এই পরিবারের কারনেই বাধবে আর তারা সেখান থেকে ফায়দা লুটবে।

যত যাই বলা হোক না কেন রথসচাইল্ড পরিবার সম্পর্কে এখোনো অনেক ত্য অজানা। তাদের সম্পত্তি ট্রিলিয়ন থেকেও বেশি হতে পারে। আবার অনেকের কাছে নিছক গল্প মনে হতে পারে। তবে বলাবাহুল্য যে এই পরিবার আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মত নয়। রহস্যের গন্ধটা থেকেই যায়।

বাংলাদেশে প্রথম ইউটিউব ‘ডায়মন্ড প্লে বাটন’ পেল সময় টিভি

বাংলাদেশে এই প্রথম ‘ডায়মন্ড প্লে বাটন ’ পেল সময় টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেল।

(পহেলা মে) শনিবার সকালে এক কোটি সাবস্ক্রিপশনের মাইলফলকে পা রাখে সময় সংবাদের ইউটিউব চ্যানেল।

সময় টেলিভিশনের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি যাত্রার মাত্র প্রায় ৪ বছরেই সাবস্ক্রাইবার বিবেচনায় দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।

যাত্রার তিন মাসের মাথায় ২০১৮ সালের মার্চে এক লাখ সাবস্ক্রাইবার ছাড়িয়ে ‘সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে এই চ্যানেলটি। এরপর তথ্যপিপাসুদের তুমুল সাড়ায় এক বছরের মধ্যেই ছাড়িয়ে যায় ২০ লাখ সাবস্ক্রাইবার। গত বছরের ১৪ জুন এ সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়ায়। একই বছরের ১৯ নভেম্বর ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যায় সময়ের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা। এরপর ছয় মাসেরও কম সময়ে আরও ২০ লাখ সাবস্ক্রাইবারের ভালোবাসা পায় সময়।

সাবস্ক্রাইবারের এ সংখ্যার মধ্য দিয়ে শুধু বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যেই শীর্ষে না, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা (৭.৩৩ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার) ও বিবিসিকে (৯.৮৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার) পেছনে ফেলেছে সময় সংবাদের ইউটিউব চ্যানেল। তবে এনডিটিভি ১০ মিলিয়ন ও সিএনএন ১২.৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার নিয়ে এগিয়ে আছে।

এর আগে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইউটিউব থেকে সিলভার বাটন অ্যাওয়ার্ড ও পরে গোল্ড বাটন অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করে চ্যানেলটি। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে অধিক সাবস্ক্রাইবার ও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার জন্যও প্রশংসা কুড়িয়েছে ইউটিউবের কাছ থেকে।

এই সাফল্যের সঙ্গী হওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইবার, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সময় মিডিয়া লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের আরাকানের অতীত ও বর্তমান

মিয়ানমারের আরাকানের অতীত ও বর্তমান

মিয়ানমার এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। আয়তন প্রায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৭০ বর্গমাইল। এদেশের লোকসংখ্যা প্রায় ৬ কোটির চেয়েও বেশী। মিয়ানমার বৃটেন হতে স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী । ১৪০টি জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হচ্ছে মুসলমানরা । মুসলিমদের সংখ্যা ৮০ লাখের চেয়েও বেশি। মিয়ানমারের ছোট বড় শহরগুলোতেই মুসলমানদের বসবাস।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে নাফ-নদী ও সাগর উপকূলে এবং বিস্তীর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে এবং মিয়ানমারের পশ্চিমে আরাকানের অবস্থান। এটি প্রায় ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে আরাকান রাজ্য অবস্থিত। ঐতিহাসিকদের মতে, আরাকানের মাটি খুবই উর্বর থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আরাকান প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে রয়েছে আরাকানের সীমান্ত। জানা গেছে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে আরাকান কখনো সাংস্কৃতিক, কখনো সামাজিক এবং কখনো অর্থনৈতিকভাবে মিয়ানমারের অংশ ছিল না। ১৮২৪ সালে দিকে বৃটিশ-বার্মা যুদ্ধে আরাকান বৃটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। বার্মিরাজা সাধারনত বুদা পাওয়া কর্তৃক ১৭৮৪ সালে মিয়ানমারের সাথে সম্পৃক্ত করার আগ পর্যন্ত আরাকান স্বাধীন ছিল। কিন্তু পরে ১৯৪০ সালে মিয়ানমার স্বাধীনতা লাভের সময় বৃটেন আরাকানের সার্বভৌমত্ব রেঙ্গুনের কাছে ন্যস্ত করে। জাতিসংঘের ঘোষণা মতে ১৫১৪ ৬ষ্ঠ প্রস্তাব মোতাবেক আরাকানের সার্বভৌমত্ব বার্মা ইউনিয়নের কাছে ন্যস্ত করা ছিল অবৈধ। এরপর ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার আরাকানকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করেছিল। কিন্তু পরে ১৯৬২ সালে ১ ডিক্রি বলে জেনারেল নে-উইনের নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা সরকার আরাকানের স্বায়ত্ত শাসন প্রত্যাহার করে। এর পর এক সময় স্বাধীন-সার্বভৌম আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাস বেশি ছিল। আর আরাকান মিয়ানমারের অংশ নয়। এরপর স্বাধীনতা প্রদানকালে বৃটিশ সরকার আরাকানকে স্বায়ত্তশাসনসহ মিয়ানমারের সাথে সংযুক্ত করে দিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় জেনারেল নে-উইনের সামরিক সরকার ১৯৬২ সালে আরাকানের স্বায়ত্তশাসন রহিত করে । পরে মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে গণ্য করে । এবং তাদেরকে শুধু দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণতই করেনি, মুসলমানদের উপর অত্যচার-নির্যাতন বৃদ্ধিও করে। যাতে করে মুসলমানরা সেদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় । যা আজো অব্যাহত আছে । রাখাইনদের পরেই আরাকানে মুসলমানদের অবস্থান। বিগত দিনে জাতিগত দাঙ্গা সংঘটিত হওয়ার ফলে আরাকান ক্রমবর্ধমান হারে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে। এই যে, আরাকান প্রদেশে বিগত শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মিয়ানমারের আরাকানের ৮০ শতাংশ মুসলমানের বসবাস থাকার পরও বাইরের জগতে তারা তেমন অবগত নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, রোহিঙ্গাদের পূর্ব পুরুষ হচ্ছে, ইরানী, পাঠান, আরব, তুর্কি, মোগল, বাঙ্গালী এবং ইন্দো-মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত কিছু জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গারা ধর্মে মুসলমান। কিন্তু তাদের রয়েছে পৃথক সংস্কৃতি ও সভ্যতা। আরাকানের মুসলমান অধিবাসীরা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সমস্যায় ভুগছে। তারা ১৯৭৭ সালে দেশ ত্যাগের চাপের মুখ সম্মুখীন হয়। তখন থেকে রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণ শুরু হয়। মিয়ানমার সামরিক জান্তা গোটা আরাকানের মুসলমানদের মুরগীর বাচ্চার ন্যায় খাচার মধ্যে আবদ্ধ করেছে। তাদের নেই কোনো নাগরিক মৌলিক অধিকার। এখানে ২০০১ সাল থেকেই মুসলিম বৌদ্ধ জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয় এবং নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যার কারণে গোটা আরাকান রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।দুঃখের বিষয় হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মে জীব হত্যা মহাপাপ হলেও তারা বৌদ্ধ ধর্মের এ মর্মের বাণী কাজের মাধ্যমে অস্বীকার করছে। আরাকান থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন করে সেখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের অধিপাত্য বিস্তারে পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে তারা । আরাকান রাজ্যে কাউয়ার বিলের সীমান্ত রক্ষী (বিজিপি) ক্যাম্পে আক্রমণে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে দেশের সামরিক জান্তা এবং বিজিপি যৌথভাবে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দমন, নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে।জানা আছে যে গত ৯ অক্টোবর এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত এ তথ্য উদঘাটন না করে নির্বিচারে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাকে সীমান্ত রক্ষী বিজিপি সেনাবাহিনী রেডএলার্ট জারি করে রেখেছিল। এরপর আরাকান রাজ্য থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সৃষ্ট ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বর্বরোচিত দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতনে আরাকানের প্রায় ৩৩ গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য। আরাকানের স্বাধিকার আন্দোলনের সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) দমনের নামে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রায় ৮শ’ ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে। ১১ হাজার মানুষ এখন ঘরছাড়া হয়ে পাহাড়ে, ধানক্ষেতে বাঁশবনে ও ঝোঁপ-জঙ্গলেও আশ্রয় নিয়েছে। সামরিক জান্তা ও বর্ডার পুলিশ (বিজিপি)র হাতে এ পর্যন্ত ২৩৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। আটক হয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। আহতও হয়েছে শতাধিক। সামরিক জান্তা এবং বিজিপি নির্বিচারে হত্যার আতংকে ১৩৩ গ্রামের পুরুষ শূন্যতার সুযোগে বাড়ীতে তল্লাশীর নামে লুটপাট এবং সুন্দরী রমণীদের উপর শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গা সালিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সন্ধান এবং আটকের নামে ১৩৩ গ্রামের ঘরের বেড়া, শৌচাগারের বেড়া ও গোসলখানার বেড়া পর্যন্ত তুলে নিয়েছে সীমান্ত রক্ষীরা। উচ্ছেদকৃত গ্রামগুলো হচ্ছে, কাউয়ার বিল, নাইনসং, ওয়াফেরপাড়া, কিয়ারীপাড়া, হাতগজ্যা পাড়া, নাচ্ছ্যাগুরো পাড়া, বাদল্ল্যাপাড়া, বুড়া সিকদার পাড়া, নাপপুরা পাড়া, লোটাইং, হাতিপাড়া, সিং ডিবি বিলপাড়া, হাছার বিল পাড়া, মোম্বাইপাড়া, দেচ্ছেরপাড়া, তিনগজ্যা পাড়া, খাঁইরপাড়া, কোয়াইংছড়ি বিল পাড়া, খসরের বিলপাড়া, নাপিতত বিল পাড়া, ৫নং ভেকুয়াপাড়, বাঁকঘোনাপাড়া, শীলখালীপাড়া, বুচিদং শরের, নাইক্ষ্যংচংপাড়া, মরিচ্যা বিল পাড়া, কোয়াইসং, আলিদং, রাসিদং শহরের মোজাইপাড়া, আলাপ্রাংপাড়া ও জেটিং পাড়া এসব এলাকায় সীমান্ত রক্ষী (বিজিপি) বর্ডার গার্ড পুলিশ এবং সামরিক জান্তার ঘাঁটি ছিল মোট ৯০টি। এই ঘটনার পর তারা আরো ২৬টি ঘাঁটি বৃদ্ধি করেছে। গত নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ থেকে নির্যাতন ও হত্যাসহ টর্সারসেল-এর মাধ্যমে নির্বিচারে হত্যাকা- অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন নেট ও গণমাধ্যম এই বিষয়ের উপর ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি?

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি?

আমরা সাধারনত জানি যে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ হচ্ছে ইউরোপের দেশ ভ্যাটিকেন সিটি। কিন্তু আসলে এর চেয়েও ছোট দেশ আছে। আয়তনে শূন্য দশমিক ০২৫ বর্গকিলোমিটার এই দেশটির মোট বাসিন্দা হচ্ছে মাত্র ৮৫ জন । এই দেশটির নিজস্ব পতাকা, পাসপোর্ট এবং মুদ্রা সবই আছে। এটি উত্তর মহাসাগরে ব্রিটেনের জলসীমায় সাফোক (Suffolk) নামক উপকূলে অবস্থিত । পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম এই দেশের নাম প্রিন্সিপ্যালিটি অব সিল্যান্ড। ছোট করে সবাই সিল্যান্ড নামেই ডাকে ।এই দেশের রাজধানীও আছে। রাজধানীর নামটি ও খুব সুন্দর এইচএম ফোর্ট রাফস। তাদের মুদ্রার নাম সিল্যান্ড ডলার। রাষ্ট্রীয় ওয়েবর ঠিকানা হচ্ছে SealandGov.org দেশটি আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি সমুদ্র বন্দর ছিল ।এখানে জার্মান সেনারা যেকোনও সময় ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ব্রিটিশ সেনা ইংল্যান্ড উপকূলে দূর্গ বানানোর পরিকল্পনা করেছিল এটিকে । এরই এটি একটি পরিত্যক্ত বন্দর হচ্ছে সিল্যান্ড। পৃথিবীর মধ্যে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র এখনও সিল্যান্ডকে স্বীকৃতি না দিলেও কেউ এর বিরোধিতাও করেনি। তবে বেইটসের দাবি, যেহেতু এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বন্দর সেহেতু ব্রিটেন ও জার্মানি কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছে। সামরিক বন্দরটি ১৯৬৭ সালে দখল করেন প্যাডি রয় বেইটস এবং এ স্থানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। সাধারনত স্থানটি জলদস্যুদের বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।তাদের কাছ থেকে বেইটস রাষ্ট্রটি কেড়ে নেন। বেইটস এর উদ্দেশ্য ছিল সেখানে নিজস্ব স্টেশন স্থাপন করা। তিনি সিল্যান্ডকে একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন ১৯৭৫ সালে ।তিনি তখন একটি শাসনতন্ত্র এবং একটি রাষ্ট্রের অন্যসব প্রতীকও প্রণয়ন করেন। যখন তার বয়োবৃদ্ধকাল তখন বেইটস মূল ভূখণ্ড এসেক্সে ফিরে যান এবং ছেলে মাইকেলকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন। বেইটস মারা যান ২০১২ সালের অক্টোবরে । মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯১ বছর । এর পর থেকেই বেইটসের প্রতিনিধি তার ছেলে ওই দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।